Text size A A A
Color C C C C
পাতা

কী সেবা কীভাবে পাবেন

 

ভূমি জরিপ কার্যক্রম

           ভূমিজরিপ বা ল্যান্ড সার্ভে একটি টেকনিক্যাল কার্যক্রম। এর সাহায্য একটি এলাকার সকল বা নির্দিষ্ট ভূমিখন্ডের একটি নিদিষ্ট স্কেলে নিদিষ্ট মানের কাগজে পরিমাপ গ্রহণক্রমে এর অবস্থান, আয়তন ও সীমানা (পেরিফেরি) নির্ণয় করাহয়। এরূপ কার্যক্রম দ্বারা একটি মৌজা নকশা অংকিত হয় এবং নকশার ভূমি খন্ডের দখল ও মালিকানার বর্ণনা নিয়ে একটি খতিয়ান প্রণীত হয়। এ দুটো মিলে রেকর্ড অব রাইট বা স্বত্বলিপি প্রস্তুত হয়।

জরিপে প্রণীত এরূপ স্বত্বলিপি অত্যন্ত মূল্যবান দলিলরূপে পরিগণিত । একটি দেশের প্রশাসনিক সীমানা ও অভ্যন্তরীন বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্র নির্ধারণের জন্য গ্রাম বা মৌজার সীমানা সুনিদিষ্ট থাকা আবশ্যক। সুনিদিষ্ট স্কেলে বাস্তব ভূমি খন্ডের চিত্রায়িত নকশা মামলা মোকদ্দমায় সাক্ষ্য যাচাঁই এবং Place of occurrence অর্থাৎ ঘটনাস্থল নির্ধারণ করতেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ভূমি জরিপের আবশ্যকতার সাথে এ বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে যে, সুষ্ঠুভাবে ভূমি জরিপ সম্পন্ন করা না গেলে সরকারের জমি যেমন বেহাত হতে পারে তেমনি ব্যক্তিগত জমির ক্ষেত্রে দাংগা হাংগামা, খুন ইত্যাদি কারণে মামলা মোকদ্দমা বেড়ে গিয়ে সামাজিক বিশৃংখলা সৃষ্টি হতে পারে।

ভূমি জরিপ পদ্ধতি ও স্তরসমূহঃ

          ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৪(১) ধারা এবং ১৮৭৫ সালের সার্ভে এ্যাক্টের ৩ ধারা মোতাবেক সরকার কর্তৃক কোন নির্দিষ্ট এলকা/মৌজার জরিপ কার্যক্রম শুরু করার আদেশ পেয়ে সংশ্লিষ্ট সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার প্রজ্ঞাপন জারী করে জরিপ কার্যক্রম শুরু করেন। জরিপ কার্যক্রম কতিপয় সুনির্দিষ্ট স্তরের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। প্রজাস্বত্ব বিধিমালা ১৯৫৫ এর ২৭ বিধিতে ১০ টি স্তরের উল্লেখ আছে।

ট্রাভার্স জরিপ (Travers):

          কোন মৌজার ৩৩% এর বেশী প্লট পরিবর্তিত হলে একটি নতুন প্লেন সিটে ট্রাভার্স জরিপের মাধ্যমে নকশা প্রস্তুত করতে হয়। এরূপ সিটকে পি-৭০ সিট বলে। একজন ক্যাম্প অফিসারের নের্তৃত্বে ট্রাভার্স সার্ভেয়ার, কম্পিউটর ও কতিপয় খালাসীসহ একটি ট্রাভার্স দল গঠন করে ট্রাভার্স জরিপ সম্পন্ন করা হয়।ট্রাভার্স সার্ভেয়ার থিওডোলাইট যন্ত্রের সাহায্যে ট্রাভার্স ষ্টেশন চিহ্নিতকরে বাঁশের খুঁটি পুঁতে দেন। চিহ্নিত বাঁশের খুঁটিগুলে কম্পিউটেশনের মাধ্যমে গোলাকার চাঁদা আকারে মোটা সিটে সন্নিবেশিত করে কিস্তোয়ার কাজ করার জন্য সিট গুলো সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের নিকট সরবরাহ করা হয়।
কিস্তোয়ার (Kistowar)

         একটি মৌসুমী আমিন দল পি-৭০ সিটে অথবা ব্লু-প্রিন্ট সিটে কিস্তোয়ার সম্পন্ন করে থাকেন। নকশায় ৩৩% এর কম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাবেক নকশার i ব্লু-প্রিন্ট সিটে কিস্তোয়ার করা হয়ে থাকে। মৌসুমী আমিন সার্ভে যন্ত্রপাতির সাহায্যে প্লট-টু-প্লট জরিপ করে নকশা প্রস্তুত করে থাকেন। কিস্তোয়ার মাধ্যমে মৌজা নকশায় মৌজায় প্রতিটি ভূমি খন্ডের অবস্তানগত প্রতিচ্ছবি নির্ধারিত স্কেলে (সাধারণত ১৬'' = ১ মাইল স্কেলে) অংকন করা হয়।

খানাপুরি (Khanapuri)

         এস্তরে কিস্তোয়ারকৃত ভূমি খন্ডের নকশায় দাগ নম্বর দেয়া হয়। এ নকশায় ভূমিখন্ড গুলো উত্তর পশ্চিম কোণ হতে নাম্বারিং করা হয়। এ স্তরে খতিয়ান খোলা হয়, তবে খতিয়ানে জমির পরিমাণ লেখা হয় না। খতিয়ানে শুধু মালিকের নাম, ঠিকানা, জমির শ্রেণী, পরিমাণ, দাগনম্বর, ইত্যাদি সন্নিবেশ করা হয়। সরদার আমিন, বদর আমিনের সহায়তায় উপস্থিত ভূমি মালিকদের কাগজপত্র ও বক্তব্য পর্যালোচনাক্রমে খতিয়ান প্রণয়ন করেন। খতিয়ান ধারাবাহিক নম্বর দিয়ে খুলতে হয়। ১ নং খতিয়ানে সরকারের খাস জমি কালেক্টরের নামে এবং ১/১ খতিয়ানে অর্পিত সম্পত্তি কালেক্টরের রেকর্ড করা হয়। ১ ও ১/১ খতিয়ান লেখার পর পরবর্তীগুলো রেওয়াজ অনুযায়ী এ কোন সরকারী/আধা সরকার বিভাগের নামে আগে বা পরে লেখা যেতে পারে।সর্বশেষে সাধারণ ভূমি মালিকদের খতিয়ান খুলতে হয়।

বুঝারত (Bujharat)

      খানাপুরী স্তরে প্রণীত খতিয়ানে অংশ অনুযায়ী জমির পরিমাণ লিখে ভূমি মালিকগণের নাম, জমির পরিমাণ সহ সকল তথ্য সন্নিবেশ করে ভূমি মালিকগণকে বুঝিয়ে দিয়ে খতিয়ানের একটি অনুলিপি সরদার আমিন তারিখ সহ স্বাক্ষর প্রদান করে সরবরাহ করে থাকেন।খতিয়ানের এ অনুলিপিকে পর্চা বলে। এ স্তরে খতিয়ান ও নকশায় কোন ত্রুটি থাকলেভূ-মালিক মাঠে আমিনের নিকট নির্ধারিত ফরমে (বাংলাদেশ ফরম নং ৫৪৬৫) বিবাদ কেস (ডিসপুট) দাখিল করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কোন কোর্ট ফি লাগে না। হলকা অফিসার (উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার) পরবর্তী পরিদর্শন দিবসে পক্ষগণকে শুনানী দিয়ে ডিসপুট নিস্পত্তি করবেন।

 

তসদিক (Attestation)

         প্রজাস্বত্ব বিধিমালার ২৮ বিধি মোতাবেক রাজস্ব ক্ষমতা প্রাপ্ত একজন উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার উপজেলা পর্যায়ে অথবা ইউনিয়ন পর্যায়ে ক্যাম্প স্থাপন করে কর্মসূচী দিয়ে ভূমি মালিকদের উপস্থিতিতে প্রতিটি খতিয়ান লাল কালিতে সত্যায়ন করবেন। কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে ভূমি মালিক নির্ধারিত ফরমে (বাংলাদেশ ফরম নং ৫৪৬৫ ) ডিসপুট দাখিল করতে পারেন। ডিসপুট দাখিলের জন্য কোন কোর্ট ফি লাগে না। তসদিক অফিসার পক্ষগণকে শুনানী দিয়ে ডিসপুট নিস্পত্তি করবেন।

 

খসড়া প্রকাশনা (Draft Publication)

        প্রজাস্বত্ব বিধিমালার ২৯ বিধি মোতাবেক খসড়া প্রকাশনা দেয়া হয়। খসড়া প্রকাশনাকালে কমপক্ষে ১ (এক) মাস ডি.পি.খতিয়ান ভূমি মালিকের দেখার জন্য খোলা থাকে।ডি.পি. খতিয়ানে কোন ভূল ত্রুটি থাকলে ভূমি মালিক নির্দিষ্ট ফরমে নির্ধারিত কোর্ট ফি দিয়ে আপত্তি কেস দায়ের করতে পারেন। ডি.পি. চলাকালীন আপত্তি কেস দায়ের করতে হয়।

 

আপত্তি (Objection)

       প্রজাস্বত্ব বিধিমালা ১৯৫৫ এর ৩০ বিধি মোতাবেক আপত্তি অফিসার আপত্তি কেস নিস্পত্তি করে থাকেন। আপত্তি অফিসার পক্ষগণকে নোটিশ দিয়ে শুনানী প্রদান করে আপত্তি কেস নিস্পত্তি করে থাকেন। আপত্তি অফিসার রায় প্রদানের সাথে সাথে খতিয়ান ও নকশায় (প্রয়োজনে) সংশোধন করবেন। কোন পক্ষ প্রয়োজন হলে নকশা সংশোধনের জন্য বদরের আবেদন করতে পারেন। আপত্তির রায়ে সংক্ষুদ্ধ পক্ষ রায়ের নকল সংগ্রহ করে ৩০দিনের মধ্যে উচ্চতর আদালতে আপীল কেস দায়ের করতে পারেন।

 

আপীল (Appeal)

         ৩০বিধি মোতাবেক দায়েরকৃত আপত্তি মামলার রায়ে কোন পক্ষ সংক্ষুদ্ধ হলে প্রজাস্বত্ব বিধিমালার ৩১ বিধি মোতাবেক আপীল কেস দায়ের করতে পারেন। এরূপ আপীল উক্ত আপত্তির রায় প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হয়। আপীল অফিসার নির্ধারিত কর্মসূচী মোতাবেক কমপক্ষে ৭ দিনের পূর্বে পক্ষগণকে নোটিশ দিয়ে শুনানী করে আপীল কেস নিস্পত্তি করবেন।